সংবাদ কোড: 9026
প্রকাশের তারিখ: 18 July 2012 - 19:56
printমূদ্রণ কপি
sendবন্ধুকে প্রেরণ
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন
গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চলছে। কোনো কারণ ছাড়াই এবং মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে উগ্র বৌদ্ধদের হাতে এ পর্যন্ত শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়েছে।
শাবিস্তান ডেস্ক : গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চলছে। কোনো কারণ ছাড়াই এবং মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে উগ্র বৌদ্ধদের হাতে এ পর্যন্ত শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়েছে।

মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও উগ্র বৌদ্ধদের হাতে নিরীহ মুসলমানরা অত্যাচার-নির্যাতনের স্বীকার হলেও সরকার এ বিষয়ে একেবারেই নিরব রয়েছে এবং কোনো দায়-দায়িত্ব তারা অনুভব করছে না। এমনকি মুসলমানদের সমস্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখারও প্রয়োজনীয়তাবোধ তারা করছে না। তবে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, নিজ ঘরবাড়ি থেকে তাদেরকে বের করে দেয়া, তাদের ঘরবাড়ি, দোকান-পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে দেয়ার যে পদক্ষেপ উগ্র বৌদ্ধরা নিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানদের করুণ অবস্থা দেখে চক্ষুলজ্জার কারণে পাশ্চাত্য মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে।



মিয়ানমারের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরব রয়েছে। দেশটির আট লাখ মুসলমানের জান-মাল রক্ষায় তারা কোনো দায়িত্ববোধ করছে না। এ অবস্থায় মুসলমানদের রক্ষায় দেশটির সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কেন এত অনীহা তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলমান ও সংখ্যালঘু হওয়ায় এবং জাতীয় পরিচয় না থাকার কারণেই কি তাদের ওপর এ খড়গ নেমে এসেছে?



উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তার পেছনে কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার ও উগ্র বৌদ্ধদের কোন হাত নেই এমন দাবি তারা আজও না করায় ওই আশঙ্কার বিষয়টি আরো জোরদার হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্রাণী হত্যা না করা এবং অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী এবং এই ধর্মে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইসলাম ধর্মেও কঠোরভাবে একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ কারণে আফগানিস্তানে আমেরিকার টাকায় তালেবানসহ অন্য উগ্রগোষ্ঠীগুলো যখন প্রাচীন বৌদ্ধমূর্তি ধ্বংস করছিল তখন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের মত মিয়ানমারের মুসলমান নেতারাও তালেবানের এ কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও কঠোর সমালোচনা করেছিল।



শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু রাজনৈতিক গোলযোগ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেশটি মুসলমানরা হামলার শীকার হয়। প্রকৃতপক্ষে, সব মুসলমানকেই একচেটিয়াভাবে উগ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে পাশ্চাত্যের ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী প্রচারণার মিল রয়েছে। অবশ্য মিয়ানমারে মুসলমানদের বিরুদ্ধে জুলুম-নির্যাতনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়, এর আগেও তারা নিপীড়নের শিকার হয়েছে এবং নিজ ঘরবাড়ি ও জায়গা-জমি থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।



যাই হোক, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশটিতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হবে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ বিশেষ করে সারা বিশ্বের মুসলমানরা আশা করেছিল।



বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারে এখন যা ঘটছে তার জন্য দেশটির সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহিতা করতে হবে। বিশেষ করে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সহযোগিতা সংস্থা আসিয়ানের সদস্য হিসেবে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মত প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলো এ বিষয়ে নিরব থাকবে না। (রেডিও তেহরান)
* নাম:
ই-মেইল:
* মতামত: